`বছরে ৬২ হাজার নবজাতক মারা যায়’, তা কীভাবে?

বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬২ হাজার নবজাতক মারা যায়, যাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই অকালে জন্ম নেয়া এবং ২২ শতাংশের ওজন ২৫০০ গ্রামের কম হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত একটি সেমিনারে ইউনিসেফের এক কর্মকর্তা জিয়াউল মতিন একথা বলেছেন।তবে তিনি বলেন, আমরা আমাদের বিদ্যমান সুবিধাদি ও দক্ষতা ব্যবহার করে অকালে জন্মের মৃত্যুহার ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছি।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এই সেমিনারে বলেন, শিশুদের অকালমৃত্যু এবং তাদের যথাযথ যত্নের অভাব বাংলাদেশের সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। এই প্রসঙ্গে তিনি অপরিণত সন্তানের জন্মের সময় সর্বাধিক প্রস্তুতি এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন।ব্র্যাকের স্বাস্থ্য পুষ্টি ও জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের নওরোজ জাহান সেমিনারে বলেন, অনেক গর্ভবতী মা নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান না বা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার জন্য যেতে পারেন না। তবে আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করতে পারি যে, ধাত্রী গর্ভবতী মায়ের ঘরে গিয়ে নিয়মিত পরীক্ষা করবে।

বাংলাদেশে ব্র্যাক প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের দিয়ে গর্ভবতী মায়ের যত্ন নেয়ার জন্য ৫৪টি প্রসবকালীন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালায়। তিনি আরো বলেন, প্রথমতআমরা নিরাপদ মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জোর দিয়েছি। অপরিণত জন্মের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ, গর্ভবতী মাকে স্বাস্থ্যের চেক আপ করানোর জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা।এমসিএইচএস পরিচালক এবং পল্লী পরিকল্পনা অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ শরীফ একটি অনন্য তথ্য প্রকাশ করেন যে, শিশু বয়সে গর্ভধারণ এবং দুটি গর্ভধারণের মধ্যে সামান্য বিরতি বাংলাদেশে অপরিণত শিশু জন্মের প্রধান কারণ।

মাতুয়াইলের আইসিএমএইচের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, অপরিণত শিশু জন্মের সময় তাদের স্বাস্থ্য রক্ষা হুমকির মুখে পড়ে।
অপরিণত জন্ম ও কম ওজনে জন্মানো শিশুদের জন্য ফলাফল উন্নত করার জন্য ইতিমধ্যে অনেক কাজ করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ছোট শিশুদের জন্য যত্ন একটি অপরিহার্য স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এ কারণেই শিশুদের অপরিণত জন্ম এবং কম ওজনে জন্মগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে এবং কম ওজনের শিশুর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সুশীল সমাজের সংগঠন, স্বাস্থ্যকর্মী, সম্প্রদায় ও অন্যান্য অংশীদারদের একসঙ্গে এগিয়ে আসা উচিত।

 

মতামত

comments

Post Author: admin