আপনি জানেন কি খুঁজে পাওয়া গেছে মানুষের পরবর্তী আশ্রয়স্থল দ্বিতীয় পৃথিবীর!এখুনি জেনে নিন

বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়তই নতুন কিছু আবিস্কারের নেশায় থাকে।  এবার এমনই এক গ্রহের সন্ধান দিল যাকে দ্বিতীয় পৃথিবী বলে ভাবা হচ্ছে।  পৃথিবীর মতই নাকি এর সবকিছু।  বসবাসের উপযোগী।  বসতি গড়ে তুলতে পারবে মানুষ! দেখা যাক কি হয়।  নামে আর আবিস্কারের তথ্য মতে দারুন এক গ্রহ।  কি আছে এ গ্রহে কিভাবে এর মধ্যে বাস করবে মানুষ বিজ্ঞানী যা বলছেন।

কি সুন্দর নামই না রাখল দ্বিতীয় পৃথিবীর।  ‘রস ১২৮বি’।  অনেকটা মানুষের মতো নামধারী এই গ্রহই হতে যাচ্ছে মানুষেরপরবর্তী আশ্রয়স্থল, দ্বিতীয় পৃথিবী।  বাসযোগ্য গ্রহের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দূরত্বে অবস্থান করছে গ্রহটি।  মানববসতি গড়ার জন্য আদর্শ পরিবেশ নাকি খুঁজে পাওয়া গেছে রস ১২৮বিতে।

গ্রহটি আকারে পৃথিবীর প্রায় কাছাকাছি।  এমনকি পৃষ্ঠ তাপমাত্রাও পৃথিবীর সমান হওয়ার সম্ভাবনা আছে।  যার মানে এ গ্রহে প্রাণের বিকাশ ঘটতেই পারে।  প্রতি ৯.৯ দিনে এটি এর তারা ‘রস ১২৮’কে একবার প্রদক্ষিণ করে।  পৃথিবী যেমন ৩৬৫ দিনে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।  তবে রস ১২৮বি থেকে রস ১২৮-এর দূরত্ব পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্বের ২০ ভাগের একভাগ।

তারার এতটা কাছাকাছি হওয়ার পরও গ্রহটি বাসোপযোগী, কারণ রস ১২৮ একটি লাল বামন তারা।  এরা সবচেয়ে ঠান্ডা এবং মৃদু তারা।  ফলে অতিবেগুনি রশ্মি ও এক্স-রের তেজস্ক্রিয়তা অতটা ছড়ায় না।  এখানে তরল পানি পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।  ফলে প্রাণ বিকাশের সম্ভাবনা থাকে।  পৃথিবীর চেয়ে মাত্র ১.৩৮ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয়া সহ্য করতে হবে রস ১২৮বি-তে।

গ্রহটি ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি আবিষ্কার করেছে হার্পসের (হাই একুরেসি ভেলোসিটি প্ল্যানেট সার্চার) সাহায্যে।  চিলিতে অবস্থিত এই অবজারভেটরি ‘দ্বিতীয় পৃথিবী’ খোঁজার কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেছে।  বুধবার ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস’ সাময়িকীতে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা তাঁদের এই নতুন আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন।

গবেষণাপত্রের এক লেখক নিকোলা অস্তুদিলো-ডেফ্রু জানিয়েছেন, ‘এমন এক আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িত থাকা অনেক তৃপ্তির।  এ পদ্ধতি জানিয়ে দিচ্ছে, আমরা দ্বিতীয় পৃথিবী খুঁজে পাওয়ার পথে অবদান রাখছি। ’

রস ১২৮বি পৃথিবী থেকে ১১ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।  এর চেয়ে কাছে আরেকটি বাসযোগ্য গ্রহ রয়েছে, ‘প্রক্সিমা বি’।  ৪.২ আলোকবর্ষ দূরের এই গ্রহের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা রয়েছে।  গ্রহটির তারা প্রক্সিমা সেঞ্চারি বামন তারা হলেও মাঝেমধ্যেই অতিবেগুনি রশ্মি ও এক্স-রের বিচ্ছুরণ ঘটায়।  যেটা প্রাণিজগৎ ধ্বংস করে দিতে পারে।  কিন্তু রস ১২৮ তারাটি সে তুলনায় একেবারেই শান্ত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, এ গ্রহ ও তারাটিও ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে।  ফলে প্রক্সিমা বিকে ছাড়িয়ে এই নতুন গ্রহই আমাদের নিকটতম বাসযোগ্য প্রতিবেশী হবে একসময়।

ঘটনাটি ঘটতে অবশ্য এখনো ৭৯ হাজার বছর বাকি।  শুনে অনেক-অনেক দূর ভবিষ্যৎ মনে হতে পারে।  কিন্তু ৪০০ কোটি বছর টিকে থাকা এক গ্রহের জন্য এ আর এমনকি সময়!

মতামত

comments

Post Author: admin