নবীজি (সা.) সাতটি প্রিয় স্থান।জেনে নিন এখুনি

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ: নবী (সা.) সাতটি স্থানে বেশি বেশি যেতেন এবং এই স্থানগুলোকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। আমাদেরও উচিত এই স্থানগুলোতে যাওয়া এবং এগুলোকে ভালোবাসা। যাতে করে আমরা নবীর (সা.) ভালোবাসা লাভ করতে পারি। নিম্নে স্থানগুলোর পরিচয় তুলে ধরা হলো।

১.মক্কা : নবী মুহাম্মাদ (সা.) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি নবুয়ত প্রাপ্তও হন মক্কাতে। বায়তুল্লাহ হচ্ছে আমাদের ক্বিবলা। মসজিদে হারামের ইবাদতের সাওয়াব অন্য সকল জায়গা থেকে বেশি। (সহীহ ইবনে মুজাহ) অন্য আরো একটি হাদিসে এসেছে, মক্কা একটি পবিত্র স্থান। সেখানে সকল প্রকার রক্ত পাত নিষিদ্ধ। (তিরমিযী)
নবী (সা.) মক্কাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। যেদিন তিনি হিজরত করে মদিনাতে চলে যাচ্ছিলেন সেদিন বারবার পিছনে ফিরে তাকাচ্ছিলেন।

২. আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারা : আমাদের প্রিয় নবী (সা.) মদীনাকে খুব বেশি ভালোবাসতেন। তিনি বেশিরভাগ সময় তার দোআতে বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে মক্কা ও তার অধিবাসীদের থেকেও বেশি ভালোবাসুন। (বুখারী)

৩. আল কুদস : মক্কা ও মদিনার পরে জেরুসালেম তথা আল কুদস ইসলামের দৃষ্টিতে একটি ঐতিহাসিক ও পবিত্র স্থান। সেখানে ইসলামের অনেক নবীদের আগমন ঘটেছে। এখন থেকেই নবী (সা.) মিরাজের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন, পবিত্র কুরআনে মহান আল্লহপাক ইরশাদ করেছেন, পবিত্র তিনি যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আক্সা পর্যন্ত, যার পরিবেশকে তিনি বরকতময় করেছেন, যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান। আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা ও দ্রষ্টা। (বনীইসরাইল:১)

৪. মসজিদ আল-কুবা : নবী (সা.) সর্বপ্রথম একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন এবং এটাই ছিলো প্রথম নির্মিত মসজিদ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক এই মসজিদ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, তুমি কখনো সেই ঘরে দাঁড়াবে না। যে মসজিদে প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ভিত্তেতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল সেই মসজিদটি দাঁড়ানোরই (ইবাদতের জন্য) তোমার পক্ষে অধিকতর সমীচীন। সেখানে এমন লোক আছে যারা পাক -পবিত্র থাকা পছন্দ করে এবং আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন। (তাওবা: ১০৮)

৫. উহুদ পাহাড় : উহুদ পাহাড়। ইসলামের ইতিহাসের সঙ্গে এই পাহাড়ের নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। মসজিদে নববি থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে মদিনার ঠিক উত্তর-পূর্ব দিকে ঐতিহাসিক এই পাহাড়টির অবস্থান। উহুদ প্রান্তরে কোরায়েশরা নির্মমভাবে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাঁত মোবারক শহিদ করেছিল, তাকে আহত করেছিল। এই রণক্ষেত্রে নবী করিম (সা.)-এর চাচা মহাবীর হজরত হামজা (রা.) এবং হজরত আকিল ইবনে উমাইয়া (রা.)সহ সত্তরজন সাহাবা শহিদ হয়েছিলেন। হজরত আমির হামজা (রা.) ও হজরত আকিল (রা.) কে একই কবরে দাফন করা হয়। নবী (সা.) প্রায়ই এখানে আসতেন এবং কবর জিয়ারত করতেন।

৬. জান্নাতুল-বাকী : এটি মদিনায় অবস্থিত একটি কবরস্থান। মসজিদে নববীর দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত। পূর্বে এখানে কবরের উপর স্থাপনা ছিল। পরবর্তীতে সৌদি আরব সরকার তা ধ্বংস করে দেয়। এই কবরস্থানটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মুহাম্মদ (সা.) এর অনেক আত্মীয় ও সাহাবিকে দাফন করা হয়েছে। মুহাম্মদ (সা.) এই কবরস্থানে বেশ কয়েকবার এসেছেন। জান্নাতুল বাকীর পিছনে একসময় একটি ইহুদি কবরস্থান ছিল। পরবর্তীতে উমাইয়া আমলে তা জান্নাতুল বাকীর অংশে পরিণত করা হয়।

৭. রওজা শরিফ : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার ঘর ও মিম্বারের মাঝখানে জান্নাতের একটি বাগান আছে। আর আমার মিম্বার আমার হাউজের উপর অবস্থিত। (বুখারি ও মুসলিম)
হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে আমার রওজা জিয়ারত করলো, তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়েগেলো। (মুসলিম) নবী করিম (সা.) আরও বলেন, যে হজ করলো কিন্তু আমার রওজা জিয়ারত করলো না; সে আমার প্রতি জুলুম করলো।

 

মতামত

comments

Post Author: admin