আকর্ষণী সুন্দর ত্বক পেতে ঘুমের আগে যা না করলেই নয়।

মৌলিক কিছু পরিচর্যা আছে, যা প্রতিদিনই মেয়েদের করা উচিত। সকাল দুপুর ছাড়াও প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে রূপচর্চার জন্য আপনাকে সময় বের করতে হবে।
এই নিয়মিত যত্নটুকু খুবুই গুরত্বপুর্ন। রোজ রাতে একটু নিজের পরিচর্যা করে ঘুমালে জীবনতর সুস্থ-সুন্দর থাকা খুবই সম্ভব। ঘুমের আগে যেভাবে রুপচর্যা করবেন।

ত্বকের যত্ন-
সকালে ঘুম থেকে উঠে বা দুপুরে গোসলের পরতো বটেই এছাড়াও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও ত্বকের দরকার বিশেষ পরিচর্যা। ঘর থেকে আমাদের তো বাইরে যেতেই হয়।

আর গরমে যেহেতু ধুলাবালি বেড়ে যায়, তাই সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ত্বকের দরকার একটু বিশেষ যত্ন। তবে সবকিছুর আগে বুঝে নিতে হবে নিজের ত্বকের ধরন, যা নিজেই পরীক্ষা করে নিতে হবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন নাকের দুই পাশ, গাল অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে আছে, তাহলে ত্বক অবশ্যই তৈলাক্ত। মুখটা বেশ টান ও শুকনো এবং পিস্পলের তেমন প্রবণতা না থাকলে ত্বক একেবারে শুস্ক।

নাকের উপর ও দুই পাশে তৈলাক্ত, কিন্তু বাকিটা চেহারায় টান টান ভাব থাকলে ত্বকের ধরন মিশ্র। তারপরও অবশ্যুই কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে আপনাট ত্বকের ধরন আগে থেকেই যাচাই করে নিতে পারেন।

ধরন বুঝে করতে হবে যত্ন। ত্বকের যত্নে ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে ঘুমানোর আগে। প্রথমে মুখ ধুয়ে নিন আপনার ত্বকের সঙ্গে খাপ খায় এমন কোন ফেসওয়াশ দিয়ে ।

স্পর্শকাতর ত্বক হলে ব্যবহার করতে পারেন ভেষজ ফেসওয়াশ। এরপর ব্যবহার করুন ফেসপ্যাক।

চোখের যত্নঃ

রাতে না ঘুমালে, দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করলে সাধারণত চোখের চারপাশ ফুলে উঠে, চোখ কোঠরের ভিতরে ঢুকে যায় এবং চোখের চারপাশ কালো হয়ে যায়।

এর জন্য শসা ও আলুর রসের মিশ্রণ তৈরি করে কুসুম গরম করে নিন এবং নরম তুলার সাহায্যে চোখের পাতায় লাগিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট এভাবে রেখে দিন এবং যত্ন সহকারে ধুয়ে ফেলুন।

আইল্যাশ বা চোখের পাপড়ি ঘন করতে চাইলে ক্যাস্টর তেলের পাতলা অংশ প্রতি রাতে চোখের পাপড়িতে লাগিয়ে রাখতে পারেন। এটা আপনার চোখ ঠান্ডা এবং চোখের পাপড়ি মজবুত রাখবে।

কয়েক ফোঁটা নারিকেলের তেল চোখের চারপাশে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর হবে।

চোখ উজ্জল ও চকচকে করতে বিশুদ্ধ পানির মধ্যে ১ চিমটি পরিমাণ লবণ দিন। লবণ মিশ্রিত পানি দ্বারা চোখ ধুয়ে ফেলুন।

হাত ও পায়ের যত্নঃ

প্রতি রাতে পা ধুয়ে লোশন লাগিয়ে ঘুমাতে যান। এছাড়া নিয়মিত যত্ন হিসেবে সপ্তাহে দু-একবার যেটা করতে পারেন তা হলো- রাতে পা প্রথমে সাবান দিয়ে পরিস্কার করে, ২ টেবিল চামচ কুসুম গরম অলিভ অয়েল+১চা চামচ লবণের মিশ্রণ তৈরি করে সেটা পায়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন।

এতে মৃতকোষ ঝরে যাবে, গোড়ালি নরম হবে, ম্যাসাজে রক্ত চলাচল ভালো হবে। এর বদলে মুখের জন্য যে স্ক্র্যাব ব্যবহার করেন, তা দিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন।

ধুয়ে লোশন লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন। সারাদিন পর পা দুটোকে যথোপযুক্ত আরাম দিন। হাতের যত্নও নিতে পারেন একইভাবে।

মুখ, হাত, পা যেকোনো ম্যাসাজই করতে হবে হালকা হাতে, আলতোভাবে। তা না হলে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে।

চুলের যত্নঃ

রাতে আপনি যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন আপনার চুল কি ঘুমের জন্য তৈরি থাকে! যতই ক্লান্ত হন না কেন ঘুমের আগে চুলের যত্ন কিন্তু খুবই জরুরি। কারণ এই সময়টাতেই আমাদের চুলের সবচেয়ে বেশি ড্যামেজ হয়।

রাতে ঘুমানোর সময়েই কিন্তু অনেক চুল পড়ে যায়, চুলের ডগা শিথিল হতে পারে, চুলের আগা ভেঙ্গে যেতে পারে, চুলের গ্রোথও বন্ধ হতে পারে, চুল পাতলা হতে পারে।

কিন্তু এই সব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে সবার আগে বেশকিছু জিনিস আমাদের মেনে চলতেই হবে। যাদের বড় চুল, তারা বেণী করে নিন ঘুমানোর আগে।

তাতে চুল সারা রাত ঘষা খাবে না। ছোট চুল হলে খোলা রেখে শুলেও অসুবিধা নেই। তেল ম্যাসাজ করে শুলে ঘুম ভালো হবে।

 

মতামত

comments

Post Author: admin