নবীর প্রতি ভালোবাসা যেভাবে দেখাতে হবে

গোটা সৃষ্টির প্রতি আল্লাহ তায়ালার পরই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইহসান। তাই আমাদের উচিত তাঁর আদেশ-নিষেধকে মেনে চলা। তাঁর সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা, তার প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা। তাঁর অনুসরণ, অনুকরণ করা।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘আমি এই উদ্দেশ্যেই রাসুল প্রেরণ করেছি, যাতে আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে তাঁর আনুগত্য করা হয়।’(সুরা নিসা, আয়াত: ৬৪)।

তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠের জন্য আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও নবীর প্রতি রহমত প্রার্থনা করেন। হে মুমিনরা! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করবে এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাবে। (সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৬)।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, ‘কেউ রাসুলের আনুগত্য করলে সেতো আল্লাহর আনুগত্য করল এবং কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে আমি আপনাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রেরণ করিনি।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৮)।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ ইমানদার হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজ পিতা, সন্তান ও সকল মানুষের চেয়ে আমি তার নিকট বেশি প্রিয় না হই।’(বুখারি শরিফ)।

অন্য হাদিসে আছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি একবার আমার ওপর দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর দশবার রহমত পাঠান।’ (মেশকাত শরিফ)।

পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদিস থেকে নবীপ্রেমের দুটি মূলনীতি বেরিয়ে আসে। প্রথমত, পৃথিবীর মানুষ সে যত আপনই হোক না কেন, যত প্রিয়ই হোক না কেন, যত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই হোক না কেন, তার সঙ্গে যদি নবীজীর বিরোধ হয়ে যায় অর্থাৎ কোনো বিষয়ে তাকে খুশি করতে গেলে যদি নবীজীকে অসন্তুষ্ট করবে না; এটাই তার ঈমানের পরিচয়।

দ্বিতীয়ত, নবীজীর প্রতি প্রেম নিবেদন বিশেষ কোনো আমল, সময় বা স্থানের সঙ্গে নির্ধারিত নয়।

মতামত

comments

Post Author: admin