বাংলাদেশি পাসপোর্ট বিশ্বের যেসব দেশে ‘নিষিদ্ধ”

বাংলাদেশি পাসপোর্ট- নিজ দেশ ছেড়ে কাজে অথবা বেড়াতে বিদেশে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশিদের । এমনি ঘটনা উঠে এসেছে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে। ২৪ জানুয়ারি, সকাল ৬টা। কম্বোডিয়ার নমপেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। একশ যাত্রী নিয়ে অবতরণ করে ব্যাংকক এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট। যাত্রীরা বিমানবন্দরে নেমেই কম্বোডিয়ার অন-অ্যারাইভাল ভিসার জন্য আবেদন করেন। ইউরোপীয়, আমেরিকান, মঙ্গোলীয়, ভারতীয়দের পাশাপাশি ছয় বাংলাদেশিও ছিলেন এই ফ্লাইটে। সবাই এক লাইনে দাঁড়িয়ে পাসপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখার সঙ্গে সঙ্গে ছয় বাংলাদেশিকে লাইন থেকে আলাদা করা হয়। শুরু হয় কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ধমক মিশ্রিত বাক্যবাণ।   এভাবে কেটে যায় প্রায় চার ঘণ্টা। এ সময়ে আটটি ফ্লাইটের কমপক্ষে ৫০০ যাত্রীকে একে একে সেখানে এসে আবেদন করে ভিসা-ইমিগ্রেশন শেষে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে দেখা গেল। ছিলেন বেশ কিছু ভারতীয়ও। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই আন্তরিক ব্যবহার করে তিন-চার মিনিটেই সব কাজ শেষ করে দিচ্ছিলেন বিমাবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। কিন্তু কম্বোডিয়া সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষেই এই বাংলাদেশিরা সেদেশে একটি কনফারেন্সে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।   এ কথা বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের বলা হলেও রূঢ়ভাবে একপাশে বসে থাকতে বলা হয় ছয় বাংলাদেশিকে। চার ঘণ্টা পর বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা কম্বোডিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর ভিসা দেন বাংলাদেশিদের। তারপরও একদফায় ইমিগ্রেশন থেকে ফিরিয়ে দিয়ে পরে পাওয়া যায় ক্লিয়ারেন্স। টেলিফোনে বাংলাদেশের এক কূটনীতিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ানরা এমনই করে, দুই দিন আগে বাংলাদেশি এক সিআইপি ও সরকারি পদস্থ কর্মকর্তাকেও কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিল। ’  নমপেন বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা ও অন্য যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ট্যুরিস্টের গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি কম্বোডিয়া। প্রতিবছর কয়েক লাখ পর্যটক কম্বোডিয়ার কয়েক হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য দেখতে ভিড় করছেন সেখানে। পর্যটনই দেশটির প্রধান আয়ের উৎস। তাই বিশ্বের সব দেশের জন্যই অন-অ্যারাইভাল ভিসা ব্যবস্থা চালু রেখেছে কম্বোডিয়া। তাহলে বাংলাদেশি এই ছয় ব্যবসায়ী-সাংবাদিকের সঙ্গে এমন আচরণ কেন?  বিমানবন্দরে উপস্থিত এক কম্বোডিয়ান ব্যবসায়ী জানালেন, ‘বিশ্বের মাত্র ছয়টি রাষ্ট্রকে এদেশে একধরনের ‘নিষিদ্ধ’ রাখা হয়েছে। কম্বোডিয়া চায় না এই ছয় দেশের লোকেরা এখানে আসুক। বাংলাদেশ রয়েছে এই তালিকায়। রাজধানী নমপেনে ব্যবসা করা কম্বোডিয়ান পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি হুমায়ূন কবির বলেন, ‘আগে পাকিস্তানসহ এই নিষিদ্ধের তালিকা ছিল সাত দেশের। কিন্তু পাকিস্তান কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা করে কয়েক বছর আগে তালিকা থেকে নাম কাটিয়ে নিয়েছে। এখন পাকিস্তানিরাও কম্বোডিয়ায় অবাধে যাতায়াত করতে পারছেন। কিন্তু বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নানান প্রতিবন্ধকতা রাখা হয়েছে।

মতামত

comments

Post Author: admin