বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামার এখন পদ্মা সেতুর কাজে নিয়োজিত।

এই খবর শুনে আপনি  অবাক না হয়ে পারবেন না যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালি  হ্যামার এখন মাওয়ায় । পদ্মা সেতু র্নিমানের জন্য এটি এখানে আনা হয়েছে এই আলিশান হাতুড়ি ।এই হাতুড়ি দিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে । ইতিমধ্যে এই হ্যামার দিয়ে মঞ্জ তৈরি করা হয়েছে । এই র্গাডেন ফোর্মের সাথে লাগানো হয়েছে ৪০ মিটার লম্বা পাইল । পাইলে উপরে বসানো হবে এই হ্যামারটি মুলত একটি ভাসমান ভার্জ  থেকে এটি ড্রাইব করা হবে । ভার্জের মধ্যে রয়েছে ৬ টি স্টেশন যা দেখতে অনেকটা কন্টিনিয়ারের  এর মত। এসব স্টেশনে রয়েছে হ্যামারটিকে ড্রাইব করার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত অনেক রকম যন্ত্র । হ্যামারটি পাইলের উপর স্থাপনের পর উপরের স্টেশন থেকে হাইড্রোলিক পেশার দিয়ে ড্রাইব করানো হয়্। হাইড্রোলিক পেশার দিয়ে উপর থেকে ওঠে আবার নিচের দিকে আচড়ে পরে এই পাইলের উপর। এই ভাবে পাইল গুলো পদ্মার তলদেশে প্রবেশ করতে থাকে। এই হ্যামার প্রতি মিনিটে ৩৫ থেকে ৪০ বার পাইলে আঘাত করতে পারে তাতে একটি পাইল বসাতে ৮ ঘন্টার বেশি সময় লাগে। তবে নানা সমস্যা ও পাইল ঝালাই করে জোরা দিয়ে একটি পাইল বসাতে লেগে যায় ৭ থেকে ৮ দিন কোনো কোনো ক্ষেত্রে এতে আরো বেশি সময় লাগে। ৩৫০০ কিলো ওজনের হ্যামারটি তৈরি করা হয়েছে জার্মানির কোম্পানি মেইনঅকে। বিশ্বে এই কোম্পানিটির তৈরি শতাদিক হ্যামার রয়েছে। পদ্মা সেতুর জন্য তৈরি করা এই হ্যামারটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামার এটা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।কয়েক বছর আগে নিউওর্য়াকে ৩৭০০ কিলো ওজনের হ্যামার ব্যবহার করা হলেও এটি এখনও অকার্যকর। এই হ্যামার জার্মান থেকে নেদারল্যান্ড হয়ে সমুদ্র পথে মংলায় আসে তার পর মংলা থেকে মাওয়ায়। পদ্মা সেতুর জন্যই অর্ডার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।এর আগে ৩০০০ কিলো ওজনের আরেকটি হ্যামার আনা হয়েছে তবে যান্ত্রিক ক্রটির কারনে সেটি চালু করা যায়নি। এটি শীগ্রই পাইল ড্রাইব শুরু করবে জানান প্রকোশলীরা। হ্যামার চালানোর জন্য জার্মান থেকে আনা হয়েছে ২৪ জন ট্যাকনেশিয়ান। তারা কাজ শুরু করেছে হ্যামারটি চালানোর জন্য। পদ্মা সেতুর জন্য আগে আরো তিনটি হ্যামার আনা হয়েছে যা ১৯০০,২৪০০,এবং ৩০০০ কিলো ওজনের । ১৯০০ কিলো ওজনের হ্যামার দিয়ে ১০০ মিটার গভীরে পাইল বসানো হচ্ছে বাকি ২৪০০ কিলো ওজনের হ্যামার দিয়ে ১২৮ মিটার গভীরে পাইল বসানো হচ্ছে তবে কয়েকটি পাইলের গভীরতা বেশি হওয়ায় এই দুটি হ্যামার দিয়ে পাইলিং করা যাচ্ছে না। এক জন প্রকোশলী জানান চারটি পিলারে নিচে মাটি নরম হওয়ায় ১২৮ মিটার থেকে আরো বেশি গভীর করতে হবে এজন্যই বেশী ক্ষমতাধর হ্যামারের প্রয়োজন ছিল তাই এই শক্তিশালী আলিশান হ্যমারটির আনা হয়। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতুর অগ্রগতি সন্তোষ জনক।

মতামত

comments

Post Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *