জীবনে বহুবার ব্যার্থ হবার পর পেয়েছেন সফলতা আলী বাবা ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা।

যে বার বার জীবনে হারতে থাকে সে জীবনে ব্যর্থতার কথা ভাবতে থাকে আর যে জিততে আগ্রহী সে সবসময় জিতার পুরুস্কারের কথা ভাবে। আমরা আজ আলীবাবা ডট কমের প্রতিষ্ঠাতা চীনের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি জ্যাক মার সাফল্যের পেছনের গল্প জানব। জ্যাক মা বিশ্বের সফল উদ্যোকতাদের মধ্যে একজন। তার মোট সম্পওির পরিমান ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু তার জীবন যুদ্ধ ছিল অত্যান্ত কঠিন। শোনার পর হয়ত আপনারা ভাববেন কেউ এতবার ব্যর্থ হওযার পরই এত ধৈর্য আর সাহস নিয়ে কাজ করেছেন। ১৯৬৪ সালে ১০ই সেপ্টেম্বর চীনের একটি ছোট গ্রামে জ্যাক মা এর জন্ম হয়। ১৩ বছর বয়সে তিনি ইংরেজি  শিখতে শুরু করেন। এমনটা চীনের খুব কম মানুষেই করত কেননা চীনের তখন ইংরেজী শিখাটা তেমন গুরুত্ব দেওয়া হত না। কোনো শিক্ষকের সাহায্যে নয় নিজের চেষ্টায় তিনি ইংরেজী শিখেছেন। ছোট বেলায়  তিনি টুরিষ্ট গাইড হিসেবে কাজ করতেন। ৯ বছর গাইড হিসেবে কাজ করতে করতে এবং বিদেশিদের সাথে ইংরেজী বলার চেষ্টা করতে করতে তিনি ইংরেজীর উপর ভালো দক্ষ হয়ে উঠেন। তার আসল নাম মায়ুন। টুরিষ্ট গাইড হিসাবে কাজ করার সময় এক বিদেশী ব্যাক্তির সাথে তার বন্ধুত্ব হয় এবং তিনি তার নাম দেন জ্যাক কারন চাইনিস নামটি উচ্চারন করা কঠিন। তিনি পড়াশুনায় তেমন মনোযোগি ছিলেন না । একারনে ক্লাস ফোর এ দুইবার এবং ক্লাস এইটে তিনবার ফেইল করেন। গ্যাযুয়েট ইনফেস পরীক্ষায় তিনি পাচঁবার ব্যর্থ হন। তার পর তিনি ছোট খাটো ও সাধারন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। ১৯৮৮ সালে ইংলিশে গ্যাযুয়েট করেন। জ্যাক মা জীবনে শুরুটা খুব অসফল ছিল তিনি ৩০ টি আলাদা আলাদা চাকরিতে আবেদন করেন কিন্তু প্রতিবার নিরাশ হন । যখন চীনের কেএফসি নতুন শাখা চালু হয় তখন কেএফসিতেই চাকরির জন্য যান। সেখানে মোট ২৪ জন আবেদন করেছিল যার মধ্যে ২৩ জন সিলেক্ট হন কিন্তু জ্যাক মা বাদ পড়েন। ইংরেজিতে ভাল হওয়ার কারনে তাকে একটি কলেজের লেকচারার হিসেবে যুক্ত করা হয়। কিছু দিন তিনি দূতাবাসের কাজ করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি আমেরিকায় যান এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে সেখানে তিনি প্রথম ইন্টারনেট সম্পর্কে জানেন। প্রথম ইন্টারনেট চালানোর সময় তিনি বিয়ার শব্দটি সার্চ করেন এসর্ম্পকে অনেক দেশের অনেক কিছু জানতে পারেন। কিন্তু এটা দেখে আর্শ্চয্য হন যে ইন্টরনেটে চায়না সর্ম্পকে কোন তথ্য ছিল না জ্যাক ইন্টারনেটে বড় সম্ভবনা দেখতে পান। এবং এখানে একটি কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেন। তিনি আরো অনেক রিচার্স করার পর নিজের বন্ধুদের সাথে মিলে চায়না ইয়েলো মেসেজ নামক ওয়েবসাইট বানান। যা চীনের ছোট বড় ব্যবসাকে একসাথে জুড়তে সক্ষম ছিল। কিন্তু তবুও চীনের তিনি এর জন্য পানিক পাননি তিনি। তাই তার ওয়েব সাটটি বন্ধ করে দিতে হয় । এত ব্যর্থতারই  পরে কম লোকেই আছেন যে তিনি আরো কিছু করতে চাইবেন । কিন্তু না জ্যাক মা তার স্ত্রী ও বন্ধুদেও সাথে সেই একই কনটেন্ট নিয়ে আরো একটি ওয়েবসাইট চালু করেন যার নাম ছিল আলীবাবা ডট কম । এখানে  শুরু থেকেই তিনি কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন । কিন্তু সফট ব্যাংকের সাথে কাজ শুর করার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না । দেখতে দেখতে মাএ ৪ বছররে মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স কোম্পানি ই-বে কে পেছনে ফেলে দেয়। বর্তমানে ই-বে এবং অ্যামাজন একত্রে যা আয় করে তার চেয়ে বেশি আয় করে আলীবাবা ডট কম। জ্যাক মা বিশ্বের ধনী ব্যাক্তিদের মধ্যে অন্যতম। আলী বাবা নেটওয়ার্ক ফেসবুকের চেয়েও বড়। তাই ব্যর্থতা আসলে ঘাবড়ে না গিয়ে আমাদের উচিৎ সাহস নিয়ে তা মোকাবেলা করা। তাই তো জ্যাক মা বলেছেন আজকের দিনটি কঠিন সামনের দিনটি আরো খারপ হবে কিন্তু তার পরদিন সূর্যের আলো আসবেই।

মতামত

comments

Post Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *